Lord Krishna

শ্রীনরোত্তম-প্রার্থনা

(Sri Narottama Prarthna in Bengali)

Srila Narottama Dasa Thakura

Also known as shri narottama prarthna · shree narottama prarthna · narottama prarthna

Narottama Dasa Thakura's book of prayers — fifty-five songs, in Bengali written here in Devanagari, and the register is longing rather than praise. Song after song begins by asking when. When will the body thrill at saying Gauranga and the eyes run at Hari, Hari; when will worldly wanting become a small thing; when shall I see that Vrindavana and understand the love of the Youthful Pair. The self-reproach is unsparing: I have not served those feet even a sesame's worth; having got a human birth and not worshipped, I have knowingly drunk poison. Between the laments it names its lineage, the six Goswamis and Krishnadasa Kaviraja, and its household — Nityananda my wealth, Gaurachandra my lord, Gadadhara my family, the dust of Vaishnavas' feet my bathing water. The last songs turn to Vraja, and one drowns in it: an ocean of love with no direction in it, and Narottama cannot swim.

শ্রীশ্রীকৃষ্ণচৈতন্যনিত্যানন্দৌ জযতঃ
শ্রীশ্রীনরোত্তম ঠাকুর মহাশয—বিরচিত শ্রীনরোত্তম-প্রার্থনা
‘গৌরাংগ’-বলিতে হবে পুলক শরীর। ‘হরি-হরি’-বলিতে নযনে বহে নীর।। আর কবে নিতাঈচাঁদ করুণা করিবে। সংসার বাসনা মোর কবে তুচ্ছ হবে।। বিষয ছাডিযা কবে শুদ্ধ হবে মন। কবে হাম হেরব সেই বৃন্দাবন।। রূপ-রঘুনাথ-পদে হবে আকৃতি। কবে হাম বুঝব সে যুগল-পিরীতি।। রূপ-রঘুনাথ-পদে রহু মোর আশ। প্রার্থনা করযে সদা নরোত্তমদাস।।১।।
হরি ! হরি ! কি মোর করম অতি মন্দ। ব্রজে রাধাকৃষ্ণ পদ, না সেবিনু তিল আধ, না বুঝিনু রাগের সম্বন্ধ।। স্বরূপ সনাতন রূপ, রঘুনাথ ভট্ট-যুগ, ভূগর্ভ শ্রীজীব লোকনাথ। ইহাঁ সবার পাদ-পদ্ম, না সেবিনু তিল আধ, কিসে মোর পুরিবেক সাধ।। কৃষ্ণদাস কবিরাজ, রসিক ভকত মাঝ, জে রচিল চৈতন্য-চরিত। গৌর গোবিন্দ লীলা, শুনিলে গলযে শিলা, না ডুবিল তাহে মোর চিত্ত।। তাহার ভক্তের সংগ, তাংর সংগে জাংর সংগ, তার সংগে নহিল কেন বাস। কি মোর দুঃখের কথা, জনম গোঙানু বৃথা, ধিক্ ধিক্ নরোত্তমদাস।।২।।
রাধাকৃষ্ণ ! নিবেদন এই জন করে। দোংহ অতি রসময, সকরুণ হৃদয, অবধান কর নাথ মোরে। হে কৃষ্ণ গোকুল চন্দ্র, হে গোপী প্রাণ বল্লভ, হে হে কৃষ্ণপ্রিযা শিরোমণি। হেন গৌরী শ্যাম গায, শ্রবণে পরশ পায, গুন শুনি জুডায পরাণ।। অধম দুর্গতি জনে, কেবল করুণা মনে, ত্রিভুবনে এ যশ খেযাতি। শুনিযা সাধুর মুখে, শরণ লইনু সুখে, উপক্ষিলে নাহি মোর গতি।। জয রাধে জয কৃষ্ণ, জয জয রাধে কৃষ্ণ, কৃষ্ণ কৃষ্ণ জয জয রাধে। অংজলি মস্তকে ধরি, নরোত্তম ভূমে পডি, কহে দোংহে পুরাও মন সাধে।।৩।।
হরি ! হরি ! হেন দিন হইবে আমার। দুহুঁ অংগ নিরখিব, দুহুঁ অংগ পরশিব, সেবন করিব দোংহাকার।। ললিতা বিশাখা সংগে, সেবন করিব রংগে, মালা গাংথি দিব নানা ফূলে। কনক সম্পুটি করি, কর্পূর তাম্বুল ভরি, যোগাইব বদন-কমলে।। রাধাকৃষ্ণ শ্রীচরণ, সেই মোর প্রাণধন, সেই মোর জীবন উপায। জয পতিত-পাবন, দেহ মোরে এই ধন, তুযা বিনে অন্য নাহি ভায।। শ্রীগুরু করুণা-সিন্ধু, অধম জনার বন্ধু, লোকনাথ লোকের-জীবন। হা হা প্রভু ! কর দযা, দেহ মোরে পদ ছাযা, নরোত্তম লইল শরণ।।৪।।
হরি হরি ! বিফলে জনম গোঙাইনু। মনুষ্য জনম পাইযা, রাধাকৃষ্ণ না ভজিযা, জানিযা শুনিযা বিষ খাইনু।। গোলোকের প্রাণধন, হরিনাম সংকীর্তন, রতি না জন্মিল কেনে তায। সংসার বিষানলে, দিবা নিশি হিযা জ্বলে, জুডাইতে না কৈনু উপায।। ব্রজেন্দ্রনন্দন জেঈ, শচীসুত হৈল সেঈ, বলরাম হইল নিতাই। দীন হীন জত ছিল, হরিনামে উদ্ধারিল, তার সাক্ষী জগাই-মাধাই।। হা হা প্রভু নন্দসুত, বৃষভানুসুতা যুত, করুণা করহ এই বার। নরোত্তমদাস কয, না ঠেলিহ রাংগা পায, তোমা বিনে কে আছে আমার।।৫।।
হরি হরি কবে মোর হইবে সুদিন। ভজিব সে রাধাকৃষ্ণ হঞা প্রেমাধীন।। সুযন্ত্রে মিশাযে গাব সুমধুর তান। আনন্দে করিবে দোংহাঈ রূপগুণ গান।। রাধিকা গোবিন্দ বলি কাংদিব উচ্চৈঃ স্বরে। ভিজিযে সকল অংগ নযনের নীরে।। এই বার করুণা কর ললিতা বিশাখা। সখ্য ভাবে মোর প্রভু সুবলাদি সখা।। সবে মিলি কর দযা পুরুক মোর আশ। প্রার্থনা করযে সদা নরোত্তমদাস।।৬।।
প্রাণেশ্বর নিবেদন এই জন করে। গোবিন্দ গোকুলচন্দ্র, পরম আনন্দকন্দ, গোপীকুল-প্রিয দেখ মোরে।। তুযা প্রিয পদসেবা, এই ধন মোরে দিযা, তুমি প্রভু করুণার নিধি। পরম মংগল যশ, শ্রবণে পরম রস, কার কিবা কার্য্য নহে সিদ্ধি।। দারুণ সংসার গতি, বিষযেতে লুব্ধ মতি, তুযা বিস্মরণ শূল বুকে। জর জর তনু মন, অচেতন অনুক্ষণ, জীযন্তে মরণ ভেল দুঃখে।। মো বড অধম জনে, কর কৃপা নিরীক্ষণে, দাস করি রাখ বৃন্দাবনে। শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য নাম, প্রভু মোর গৌর-ধাম, নরোত্তম লইল শরণে।।৭।।
গোবিন্দ গোপীনাথ ! কৃপা করি রাখ নিজ পদে। কাম ক্রোধ ছয জনে, লযে ফিরে নানা স্থানে, বিষয ভুঞ্জায নানা মতে।। হইযা মাযার দাস, করি নানা অভিলাষ, তোমার স্মরণ গেল দূরে। অর্থ লাভ এই আশে, কপট বৈষ্ণব-বেশে, ভ্রমিযা বেডাই ঘরে-ঘরে।। অনেক দুঃখরে পরে, লযে ছিলে ব্রজপুরে, কৃপা ডোর গলায বাঁধিযা। দৈব মাযা বলাত্কারে, খসাইযা সেই ডোরে, ভব কূপে দিলেক ডারিযা।। পুনঃ যদি কৃপা করি, এ জনার কেশে ধরি, টানিযা তুলহ ব্রজধামে। তবে সে দেখিএ ভাল, নতু বা পরাণ গেল, কহে দীন দাস নরোত্তমে।।৮।।
মোরে প্রভু মদনগোপাল ! শ্রীগোবিন্দ গোপীনাথ, তুমি অনাথের নাথ, দযা করো মুঞি অধমেরে। সংসার সাগর ঘোরে, পডিযাছি কারাগারে, কৃপা ডোরে বান্ধি লহ মোরে।। অধম চাণ্ডাল আমি, দযার ঠাকুর তুমি, সুনিযাছি বৈষ্ণবের মুখে। এ বড ভরোসা মনে, লযে ফেল বৃন্দাবনে, বংশীবট জেন দেখি সুখে।। কৃপা কর আগু গুরি, লহ মোরে কেশে ধরি, শ্রীযমুনা দেহ পদ ছাযা। অনেক দিনের আশ, নহে জেন নৈরাশ, দযা কর না করিহ মাযা।। অনিত্য শরীর ধরি, আপন-আপন করি, পাছে-পাছে শমনের ভয। নরোত্তমদাস ভনে, প্রাণ কান্দে রাত্রি দিনে, পাছে ব্রজ প্রাপ্তি নাহি হয।। ৯ ।।
ধন মোর নিত্যানন্দ, পতি মোর গৌরচন্দ্র, প্রাণ মোর যুগলকিশোর। অদ্বৈত আচার্য্য বল, গদাধর মোর কুল, নরহরি বিলাসই মোর।। বৈষ্ণবের পদধূলি, তাহে মোর স্নান-কেলি, তর্পণ মোর বৈষ্ণবের নাম। বিচার করিযা মনে, ভক্তিরস আস্বাদনে, মধ্যস্থ শ্রীভাগবতপুরাণ।। বৈষ্ণবের উচ্ছিষ্ট, তাহে মোর মন নিষ্ঠ, বৈষ্ণবের নামেতে উল্লাস। বৃন্দাবনে চবূতরা, তাহে মোর মন ঘেরা, কহে দীন নরোত্তমদাস।।১০ ।।
নিতাই পদ কমল, কোটি চন্দ্র সুশীতল, জে ছাযায জগত জুডায। হেন নিতাই বিনে ভাই, রাধাকৃষ্ণ পাইতে নাই, দৃঢ করি ধর নিতাইযের পায।। সে সম্বন্ধ নাহিং জার, বৃথা জন্ম গেল তার, সেই পশু বড দুরাচার। নিতাই না বলিল মুখে, মজিল সংসার সুখে, বিদ্যা-কুলে কি করিবে তার।। অহংকারে মত্ত হইযা, নিতাই পদ পাসরিযা, অসত্যের সত্য করি মানি। নিতাইযের করুণা হবে, ব্রজে রাধাকৃষ্ণ পাবে, ভজ নিতাইযের চরণ দু খানি।। নিতাই চরণ সত্য, তাঁহার সেবক নিত্য, নিতাই পদ সদা কর আশ। নরোত্তম বড দুঃখী, নিতাই মোরে কর সুখী, রাখ রাংগা চরণের পাশ।।১১।।
ভাই ভাই ! ভজ মোর গৌরাংগচরণ। না ভজিযা মৈনু দুঃখে, ডুবি গৃহ বিষ কূপে, দগ্ধ কৈল এ পাঁচ পরাণ।। তাপত্রয বিষানলে, অহর্নিশি হিযা জ্বলে, দেহ সদা হয অচেতন। রিপু বশ ইন্দ্রিয হৈল, গোরা পদ পাসরিল, বিমুখ হইল হেন ধন।। হেন গৌর দযাময, ছাডি সব লাজ ভয, কায মনে লও রে শরণ। পামর দুর্মতি ছিল, তারে গোরা উদ্ধারিল, তারা হইল পতিত-পাবন।। গোরা দ্বিজ নটরাজে, বান্ধহ হৃদয মাঝে, কি করিবে সংসার শমন। নরোত্তমদাস কহে, গোরা সম কেহ নহে, না ভজিতে দেন প্রেম ধনে।।১২।।
গৌরাংগের দুটী পদ, জার ধন সম্পদ, সে জানে ভকতি-রস সার। গৌরাংগের মধুর লীলা, জার কর্ণে প্রবেশিলা, হৃদয নির্ম্মল ভেল তার।। জে গৌরাংগের নাম লয, তার হয প্রমোদয, তারে মুঞি জাই বলিহারী। গৌরাংগ গুণেতে ঝুরে, নিত্য লীলা তারে স্ফুরে, সে জন ভকতি অধিকারী।। গৌরাংগের সংগী-গণে, নিত্য-সিদ্ধ করি মানে, সে জায ব্রজেন্দ্রসুত পাশ। শ্রীগৌডমণ্ডল ভূমি, জেবা জানে চিন্তামণি, তার হয ব্রজ ভূমে বাস।। গৌর প্রেম রসাণ্র্বে, সে তরংগে জেবা ডুবে, সে রাধা-মাধব অন্তরংগ। গৃহে বা বনেতে থাকে, হা গৌরাংগ বোলে ডাকে, নরোত্তম মাগে তার সংগ।।১৩।।
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু ! দযা কর মোরে। তোমা বিনে কে দযালু জগত সংসারে।। পতিত পাবন হেতু তব অবতার। মো সম পতিত প্রভু না পাইবে আর।। হা হা প্রভু নিত্যানন্দ প্রেমানন্দ সুখী ! কৃপাবলোকন কর আমি বড দুঃখী।। দযা কর সীতাপতি অদ্বৈত গোসাঈং। তব কৃপা বলে পাই চৈতন্যনিতাঈ।। হা হা স্বরূপ সনাতন রূপ রঘুনাথ। ভট্ট যুগ শ্রীজীব হা প্রভু লোকনাথ।। দযা কর শ্রীআচার্য প্রভু শ্রীনিবাস। রামচন্দ্র সংগ মাগে নরোত্তমদাস।।১৪।।
জে আনিল প্রেমধন করুণা প্রচুর। হেন প্রভু কোথা গেলা আচার্য্য ঠাকুর।। কাঁহা মোর স্বরূপ রূপ কাঁহা সনাতন। কাঁহা দাস রঘুনাথ পতিত-পাবন।। কাঁহা মোর ভট্টযুগ কাঁহা কবিরাজ। এক কালে কোথা গেলা গৌরা নটরাজ।। পাষাণে কুটিব মাথা অনলে পশিব। গৌরাংগ গুণের নিধি কোথা গেলে পাব।। যে সব সংগীর সংগে জে কৈল বিলাস। সে সংগ না পাঞা কাঁদে নরোত্তমদাস।।১৫।।
হরি হরি ! বড শেল মরমে রহিল। পাইযা দুর্ল্লভ তনু শ্রীকৃষ্ণভজন বিনু, জন্ম মোর বিফল হইল।। ব্রজেন্দ্রনন্দন হরি, নবদ্বীপে অবতরি, জগত ভরিযা প্রেম দিল।। মুঞি সে পামর মতি, বিশেষ কঠিন অতি, সেই মোর করুণা নহিল।। স্বরূপসনাতন রূপ, রঘুনাথ ভট্টযুগ, তাহাতে না হৈল মোর রতি।। দিব্য চিন্তামণি ধাম বৃন্দাবন হেন স্থান, সেই ধামে না কৈনু বসতি।। বিশেষ বিষযে মতি, নহিল বৈষ্ণবে রতি, নিরন্তর খেদ উঠে মনে।। নরোত্তমদাস কহে, জীবার উচিত নহে, শ্রীগুরুবৈষ্ণব সেবা বিনে।।১৬।।
ঠাকুর বৈষ্ণব পদ, অবনীর সম্পদ, শুন ভাঈ হঞা এক মনে।। আশ্রয লইযা সেবে, সেই কৃষ্ণ ভক্তি লভে, আর সব মরে অকারণে।। বৈষ্ণব চরণ-জল, প্রেমভক্তি দিতে বল, আর কেহ নহে বলবন্ত।। বৈষ্ণব চরণ-রেণু, মস্তকে ভূষণ বিনু, আর নাহি ভূষণের অন্ত।। তীর্থ জল পবিত্র গুণে, লিখিযাছে পুরাণে, সে সব ভক্তির প্রপংচন।। বৈষ্ণবের পাদোদক, সম নহে এই সব, জাতে হয বাঞ্ছিত পূরণ।। বৈষ্ণব সংগেতে মন, আনন্দিত অনুক্ষণ, সদা হয কৃষ্ণ পর সংগ।। দীন নরোত্তম কাঁদে, হিযা ধৈর্য নাহি বাঁধে, মোরদশা কেন হৈল ভংগ।।১৭।।
ঠাকুর বৈষ্ণবগণ ! করি এই নিবেদন, মো বড অধম দুরাচার।। দারুণ সংসার নিধি, তাহে ডুবাইল বিধি, কেশে ধরি মোরে কর পার।। বিধি বড বলবান, না শুনে ধরম জ্ঞান, সদাই করম পাশে বাঁধে।। না দেখি তারণ লেশ, জত দেখি সব ক্লেশ, অনাথ কাতরে তেঞি কাঁদে।। কাম ক্রোধ লোভ মোহ মদ অভিমান সহ, আপন-আপন স্থানে টানে।। আমার ঐছন মন, ফিরে জেন অন্ধজন, সুপথ-বিষয নাহি জানে।। না লইনু সত মত, অসতে মজিল চিত্ত, তুযা পাযে না করিনু আশ।। নরোত্তমদাসে কয, দেখি শুনি লাগে ভয, তরাইযা লহ নিজ পাশ।।১৮।।
এই বার করুণা কর বৈষ্ণব গোসাঞি। পতিত-পাবন তোমা বিনে কেহ নাই।। কাহার নিকটে গেলে পাপ দূরে জায। এমন দযাল প্রভু কেবা কোথা পায।। গংগার পরশ হইলে পশ্চাতে পাবন। দর্শনে পবিত্র কর এই তোমার গুণ।। হরিস্থানে অপরাধে তারে হরিনাম। তোমা স্থানে অপরাধে নাহিক এডান।। তোমার হৃদযে সদা গোবিন্দ বিশ্রাম। গোবিন্দ কহেন মম বৈষ্ণব পরাণ।। প্রতি জন্মে করি আশা চরণের ধূলি। নরোত্তমে কর দযা আপনার বলি।।১৯।।
কি রূপে পাইব সেবা মুইঁ দুরাচার। শ্রীগুরু বৈষ্ণবে রতি না হৈল আমার।। বিশেষ মাযাতে মন মগন হইল। বৈষ্ণবেতে লেশ মাত্র রতি না জন্মিল।। গলে ফাঁস দিতে ফিরে মাযা সে পিশাচী। বিষযে ভুলিযা অন্ধ হৈনু দিবা নিশি।। ইহারে করিযা জয ছাডান না জায। সাধু কৃপা বিনা আর নাহিক উপায।। অদোষ দরশি প্রভু পতিত উদ্ধার। এই বার নরোত্তমে করহ নিস্তার।।২০।।
হরি হরি ! কি মোর করম অভাগ। বিফলে জন্ম গেল, হৃদযে রহিল শেল, নাহি ভেল হরি অনুরাগ।। যজ্ঞদান তীর্থস্নান, পুণ্য-কর্ম জপধ্যান, অকারণে সবে গেল মোহে। বুঝিলাম মনে হেন, উপহাস হয জেন, বস্ত্রহীন অলংকার দেহে।। সাধুমুখে কথামৃত, শুনিযা বিমল চিত্ত, নাহি ভেল অপরাধ কারণ। সতত অসত সংগ, সকলি হইল ভংগ, কি করিব আইলে শমন।। শ্রুতি স্মৃতি সদা কয, শুনিযাছি এই হয, হরি পদ অভয শরণ। জনম লইযা সুখে, কৃষ্ণ না বলিনু মুখে না করিনু সে রূপ ভাবন।। রাধাকৃষ্ণ দুহুঁ পায, তনু মন রহু তায, আর দূরে জাউক বাসনা। নরোত্তমদাসে কয, আর মোর নাহি ভয, তনু মন সৌংপিনু আপনা।।২১।।
হরি হরি ! আর কি এমন দশা হব। এ ভব সংসার ত্যজি, পরম আনন্দে মজি, আর কবে ব্রজভূমে জাব।। সুখময বৃন্দাবন, কবে হবে দরশন, সে ধূলি লাগিবে কবে গায। প্রেমে গদ গদ হৈঞা, রাধাকৃষ্ণ নাম লৈঞা, কাঁদিযা বেডাইব উভরায।। নিভৃতে নিকুঞ্জে জাঞা, অষ্টাংগে প্রণাম হৈঞা, ডাকিব হা রাধানাথ বলি। কবে যমুনার তীরে, পরশ করিব নীরে, কবে পিব করপুটে তুলি।। আর কবে এমন হব, শ্রী রাসমণ্ডলে জাব, কবে গডাগডি দিব তায। বংশীবট ছাযা পাঞা, পরম আনন্দ হৈঞা, পডিযা রহিব তার ছায।। কবে গোবর্দ্ধন গিরি, দেখিব নযন ভরি, কবে হবে রাধাকুণ্ডে বাস। ভ্রমিতে ভ্রমিতে কবে, এ দেহ পতন হবে, কহে দীন নরোত্তমদাস।।২২।।
হরি হরি ! আর কবে পালটিবে দশা। এ সব করিযা বামে, জাব বৃন্দাবন ধামে, এই মনে করিযাছি আশা।। ধন-জন পুত্র-দারে, এ সব করিযা দূরে, একান্ত হইযা কবে জাব। সব দুঃখ পরিহরি, বৃন্দাবনে বাস করি, মাধুকরী মাগিযা খাইব।। যমুনার জল জেন, অমৃত সমান হেন, কবে পিব উদর পূরিযা। কবে রাধাকুণ্ড জলে, স্নান করি কুতূহলে, শ্যামকুণ্ডে রহিব পডিযা।। ভ্রমিব দ্বাদশ বনে, রাস কেলি জে জে স্থানে, প্রেমাবেশে গডাগডি দিযা। সুধাইব জনে-জনে, ব্রজবাসিগণ স্থানে, নিবেদিব চরণে ধরিযা।। ভজনের স্থান কবে, নযন গোচর হবে, আর জত আছে উপবন। তার মধ্যে বৃন্দাবন, নরোত্তমদাসের মন, আশা করে যুগলচরণ।।২৩।।
করংগ কৌপীন লঞা, ছেডা কাঁথা গায দিযা, তেযাগিব সকল বিষয। কৃষ্ণে অনুরাগ হবে, ব্রজের নিকুঞ্জে কবে, জাইযা করিব নিজালয।। হরি হরি ! কবে মোর হইবে সুদিন। ফলমূল বৃন্দাবনে, খাঞা দিবা-অবসানে, ভ্রমিব হইযা উদাসীন।। শীতল যমুনা জলে, স্থান কর কুতূহলে, প্রেমাবেশে আনন্দিত হঞা। বাহুর উপর বাহু তুলি, বৃন্দাবনে কুলি কুলি, কৃষ্ণ বলি বেডাব কাঁদিযা।। দেখিব সংকেত স্থান, জুডাবে তাপিত প্রাণ, প্রেমাবেশে গডাগডি দিব। কাঁহা রাধা ! প্রাণেশ্বরি ! কাঁহা গিরিবরধারি, কাঁহা নাথ ! বলিযা ডাকিব।। মাধবী কুঞ্জেরোপরি, সুখে বসি শুক শারী, গাইবেক রাধাকৃষ্ণ রস। তরুমূলে বসি তাহা শুনি জুডাইবে হিযা, কবে সুখে গোঙাব দিবস।। শ্রীগোবিন্দ গোপীনাথ, শ্রীমতী রাধিকা সাথ, দেখিব রতন সিংহাসনে। দীন নরোত্তমদাস, করিযে দুর্লভ আশ, এমতি হইবে কত দিনে।।২৪।।
হরি হরি ! কবে হব বৃন্দাবনবাসী। নিরখিব নযনে যুগল রূপরাশি।। ত্যজিযা শযন সুখ বিচিত্র পালংক। কবে ব্রজের ধূলায ধূসর হবে অংগ।। ষডরস ভোজন দূরে পরিহার। কবে ব্রজে মাগিযা খাইব মধুকরী।। পরিক্রমা করিযা বেডাব বনে বনে। বিশ্রাম করিব জাই যমুনা পুলিনে।। তাপ দূর করিব শীতল বংশীবটে। (কবে) কুঞ্জে বৈঠব হাম বৈষ্ণব নিকটে।। নরোত্তমদাস কহে করি পরিহার। কবে বা এমন দশা হইবে আমার।।২৫।।
আর কি এমন দশা হবে। সব ছাডি বৃন্দাবন জাব।। আর কবে শ্রীরাস মণ্ডলে। গডাগডি দিব কুতূহলে।। আর কবে গোবর্দ্ধন গিরি। দেখিব নযন যুগ ভরি।। শ্যামকুণ্ডে রাধাকুণ্ডে স্নান। করি কবে জুডাব পরাণ।। আর কবে যমুনার জলে। মজ্জনে হইব নিরমলে।। সাধুসংগে বৃন্দাবনে বাস। নরোত্তমদাস করে আশ।।২৬।।
রাধা-কৃষ্ণ সেবোং মুঞি জীবনে মরণে। তাঁর স্থান তাঁর লীলা দেখো রাত্রি দিনে।। জে স্থানে জে লীলা করে যুগল কিশোর। সখীর সংগিনী হঞা তাহে হঙ ভোর।। শ্রীরূপমঞ্জরী পদ সেবা নিরবধি। তাঁর পাদপদ্ম মোর মন্ত্র মহৌষধি।। শ্রীরতিমঞ্জরী দেবি ! মোরে কর দযা। অনুক্ষণ দেহ তুযা পাদপদ্ম ছাযা।। শ্রীরসমঞ্জরী দেবি ! কর অবধান। অনুক্ষণ দেহ তুযা পাদ পদ্ম ধ্যান।। বৃন্দাবনে নিত্য নিত্য যুগল-বিলাস। প্রার্থনা করযে সদা নরোত্তমদাস।।২৭।।
রাধাকৃষ্ণ প্রাণ মোর যুগলকিশোর। জীবনে মরণে গতি আর নাহি মোর।। কালিন্দীর কূলে কেলি কদম্বের বন। রতন বেদীর উপর বসাব দুজন।। শ্যামগৌরী অংগে দিব (চুযা) চন্দনের গন্ধ। চামর দুলাব কবে হেরিব মুখচন্দ্র।। গাঁথিযা মালতীর মালা দিব দোংহার গলে। অধরে তুলিযা দিব কর্পূর তাম্বূলে।। ললিতা বিশাখা আদি জত সখীবৃন্দ। আজ্ঞায করিব সেবা চরণারবিন্দ।। শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভুর দাসের অনুদাস। সেবা অভিলাষ করে নরোত্তমদাস।।২৮।।
হরি হরি ! কবে মোর হইবে সুদিন। কেলি কৌতুক রংগে করিব সেবন।। ললিতা বিশাখা সনে, জতেক সখীর গণে। মণ্ডলী করিব দোংহা মেলি। রাইকানু করে ধরি, নৃত্য করে ফিরি। নিরখি গোঙাব কুতূহলী।। অলস বিশ্রাম ধরে, গোবর্দ্ধন গিরিবরে। রাই কানু করিবে শযনে। নরোত্তমদাসে কয, এই জেন মোর হয। অনুক্ষণ চরণ সেবনে।।২৯।।
গোবর্দ্ধন গিরিবর, পরম নির্জ্জন স্থল, রাই কানু করিবে শযনে। ললিতা বিশাখা সংগে, সেবন করিব রংগে, সুখময রাতুল চরণে।। কনক সম্পুট করি, কর্পূর তাম্বুল পুরি, জোগাইব বদন কমলে।। মণিময কিংকিণী, রতননূপুর আনি, পরাইব চরণ যুগলে।। কনক কটোরা পুরি, কর্পূর, চন্দন ভরি, কবে দিব দু জনার গায।। মল্লিকা মালতী যূথী, নানা ফুলে মালা গুথি, কবে দিব দোংহার গলায।। সুবর্ণের ঝারি করি, রাধাকুণ্ডে জল পুরি, দোংহাকার অংগেতে মখিব। গুরু-রূপা সখী বামে, ত্রিভংগ ভংগিমা ঠামে, চামরের বাতাস করিব।। দোংহার কমল-আঁখি, পুলক হইযা দেখি, দুঁহু পদ পরশিব কবে। চৈতন্যদাসের দাস, মনে মাত্র অভিলাষ, নরোত্তমদাসে সদা স্ফুরে।।৩০।।
হরি হরি ! আর কি এমন দশা হব। কবে বৃষভানুপুরে, আহীরী গোপের ঘরে, তনযা হইযা জনমিব।। যাবটে আমার কবে, এ পাণিগ্রহণ হবে, বসতি করিব কবে তায। সখীর পরম শ্রেষ্ঠ, জে তাহার হয প্রেষ্ঠ, সেবন করিব তার পায।। তেংহ কৃপাবান হৈযা, রাতুল চরণে লঞা, আমারে করিবে সমর্পণ। সফল হইবে দশা, পুরিবে মনের আশা, সেবি দুহার যুগলচরণ।। বৃন্দাবনে দুই জন, চতুর্দিকে সখীগণ, সেবন করিব অবশেষে। সখীগণ চারি ভিতে, নানা যন্ত্র লৈযা হাথে, দেখিব মনের অভিলাষে।। দুঁই চাঁদমুখ দেখি, জুডাবে তাপিত আঁখি, নযনে বহিবে অশ্রুধার। বৃন্দার নিদেশ পাব, দোহার নিকটে জাব, হেন দিন হইবে আমার।। শ্রীরূপমঞ্জরী সখী, মোরে অনাথিনী দেখি, রাখিবে রাতুল দু’টি পায। নরোত্তমদাস ভণে, প্রিয নর্ম্ম সখীগণে, কবে দাসী করিবে আমায।।৩১।।
হরি হরি ! আর কি এমন দশা হব। ছাডিযা পুরুষ দেহ, কবে প্রকৃতি হব, দুঁহু অংগে চন্দন পরাব।। টানিযা বাঁধিব চূডা, নব গুঞ্জাহারে বেডা, নানা ফুলে গাঁথি দিব হার। পীতবসন অংগে, পরাইব সখী সংগে, বদনে তাম্বুল দিব আর।। দুঁহু রূপ মনোহারী, হেরব নযন ভরি, নীলাম্বরে রাই সাজাইযা। নবরত্ন জডি আনি, বাঁধিব বিচিত্র বেণী, তাহে ফুলমালতী গাঁথিযা।। সে না রূপ মাধুরী, দেখিব নযন ভরি, এই করি মনে অভিলাষ। জয রূপ সনাতন, দেহ মোরে এই ধন, নিবেদয নরোত্তমদাস।।৩২।।
প্রাণেশ্বরি ! এইবার করুণা কর মোরে। দশনেতে তৃণ ধরি, অঞ্জলি মস্তকে ধরি, এইজন নিবেদন করে।। প্রিয সহচরী সংগে, সেবন করিব রংগে, অংগে বেশ করিবেক সাধে। রাই এই সেবা কাজে, নিজ পদ পংকজে, প্রিয সহচরী গণ মাঝে।। সুগন্ধি চন্দন, মণিময আভরণ, কৌশিক বসন নানা রংগে। এই সব সেবা জাঁর, জেন হঙ তাঁর, অনুক্ষণ থাকি তাঁর সংগে।। জল সুবাসিত করি, রতন ভৃংগারে ভরি, কর্পূর বাসিত গুযা পান। এ সব সাজাইযা ডালা, লবংগ মালতী মালা, ভক্ষ্য দ্রব্যনানা অনুপাম।। সখীর ইংগিত হবে, এ সব আনিযা কবে, যোগাইব ললিতা কে কাছে। নরোত্তমদাস কয, এই জেন মোর হয, দাঁডাইযা রহু সখীর পাছে।।৩৩।।
প্রাণেশ্বরি ! কবে মোর হবে কৃপাদিঠি । অরুণ কমল দলে, শেজ বিছাইব, বসাবব কিশোর কিশোরী। অলকা আবৃতমুখ, পংকজ মনোহর, মরকত শ্যাম হেম গোরী।। আজ্ঞায আনিযা কবে, বিবিধ ফূলবর, শুনব বচন দুঁহু মিঠি। মৃগমদ তিলক, সিন্দুর বনাযব, লেপব চন্দন গন্ধে। গাঁথি মালতী ফূল, হার পহিরা-ওব, ধাওযায মধুকর বৃন্দে। ললিতা কবে মোর, বীজন দেওযব, বীজব মারুত মন্দে।। শ্রমজল সকল, মিটিব দুঁহু কলেবর, হেরব পরম আনন্দে। নরোত্তমদাস, আশ পদ পংকজ, সেবন মাধুরী-পানে। হোওযব হেন দিন, না দেখিযে কোন চিহ্ন, দুঁহুজন হেরব নযানে।।৩৪।।
হরি হরি ! মনোরথ ফলিবে আমারে। কুসুমিত বৃন্দাবনে, নাচত শিখগণে, পিককুল ভ্রমর ঝংকারে। প্রিয সহচরী সংগে, গাইযা জাইযে রংগে, মনোহর নিকুঞ্জ কুটীরে।। দুঁহুক মন্থর গতি, কৌতুকে হেরব অতি, অংগ ভরি পুলক অন্তরে। চৌদিকে সখীর মাঝে, রাধিকার ইংগিতে, চিরুণী লইযা করে করি।। কুটিল কুন্তল সব, বিথরিযা আঁচরব, বনাইব বিচিত্র কবরী। মৃগমদ মলযজ, সব অংগে লেপব, পরাইব মনোহর হার। চন্দন কুংকুমে, তিলক বনাইব, হেরব মুখ সুধাকর।। নীলপট্টাম্বর, জতনে পরাইব, পাযে দিব রতন মঞ্জীরে। ভৃংগারের জলে রাংগা, চরণ ধোযাইব, মুছব আপন চিকুরে।। কুসুম কমল দলে, শেজ বিছাইব, শযন করাব দোংহাকারে। ধবল চামর আনি, মৃদু মৃদু বীজব, ছরমিত দুঁহুক শরীরে।। কনক সম্পুট করি, কর্পূর তাম্বুল ভরি, জোগাইব দোংহার বদনে। অধর সুধারসে, তাম্বুল সুবাসে, ভোখব অধিক জতনে।। শ্রীগুরুকরুণাসিন্ধু, লোকনাথ দীনবন্ধু, মুই দিকে কর অবধান। রাধাকৃষ্ণ বৃন্দাবন, প্রিয নর্ম্ম সখীগণ, নরোত্তম মাগে এই দান।।৩৫।।
হরি হরি ! কবে মোর হইবে সুদিন। গোবর্দ্ধন গিরিবরে, পরম নিভৃত ধরে, রাই কানু করাব শযন।। ভৃংগারের জলে রাঁগা, চরণ ধোযাইব, মুছাব আপন চিকুরে। কনক সম্পুট করি, কর্পূর তাম্বুল পুরি, জোগাইব দুহুঁক অধরে।। প্রিয সখীগণ সংগে, সেবন করিব রংগে, চরণ সেবিব নিজ করে। দুহুঁক কমল দিঠি, কৌতুকে হেরব সুঠি, দুঁহু অংগ পুলক অন্তরে।। মল্লিকা মালতী যূথী, নানা ফূলে মালা গাঁথি, কবে দিব দোংহার গলায। সোনার কটোরা করি, কর্পূর চন্দন ভরি, কবে দিব দোংহাকার গায।। আর কবে এমন হব, দুঁহু মুখ নিরখিব, লীলারস নিকুঞ্জ শযনে। শ্রীকুন্দলতার সংগে, কেলি কৌতুক রংগে, নরোত্তম করিবে শ্রবণে।।৩৬।।
প্রভু হে ! এইবার করহ করুণা। জুগল চরণ দেখি, সফল করিব আঁখি, ঐই মোর মনের কামনা।। নিজ পদ সেবা দিবা, নাহি মোরে উপেখিবা, দুঁহু পঁহু করুণা সাগর। দুঁহু বিনু নাহি জানো, এই বড ভাগ্য মানো, মুই বড পতিত পামর।। ললিতা আদেশ পাঞা, চরণ সেবিব জাঞা, প্রিয সখী সংগে হয মনে। দুঁহু দাতা শিরোমণি, অতি দীন মোরে জানি, নিকটে চরণ দিবে দানে।। পাব রাধাকৃষ্ণ পা, ঘুচিবে মনের ঘা, দূরে জাবে এ সব বিকল। নরোত্তমদাসে কয, এই বাঁছা সিদ্ধি হয, দেহ-প্রাণ সকল সফল।।৩৭।।
হরি হরি ! কি মোর করম অনুরত। বিষযে কুটিল মতি, সত্সংগে না হৈল রতি, কি সে আর তরিবার পথ।। স্বরূপ সনাতন রূপ, রঘুনাথ ভট্টযুগ, লোকনাথ সিদ্ধান্ত সাগর। শুনিতাম সে সব কথা, ঘূচিত মনের ব্যথা, তবে ভাল হইত অন্তর।। জখন গৌর নিত্যানন্দ, অদ্বৈতাদি ভক্তবৃন্দ, নদীযা নগরে অবতার। তখন না হৈল জন্ম, এবে দেহে কিবা কর্ম্ম, মিছা মাত্র বহি ফিরি ভার।। হরিদাস আদি বুলে, মহোত্সব আদি করে, ন হেরিনু সে সুখ বিলাস। কি মোর দুঃখের কথা, জনম গোঙানু বৃথা, ধিক্-ধিক্ নরোত্তমদাস।।৩৮।।
শ্রীরূপ মঞ্জরী পদ, সেই মোর সম্পদ, সেই মোর ভজন পূজন। সেই মোর প্রাণধন, সেই মোর আভরণ, সেই মোর জীবনের জীবন।। সেই মোর রসানিধি, সেই মোর বাঁছা সিদ্ধি, সেই মোর বেদের ধরম। সেই ব্রত সেই তপ, সেই মোর মন্ত্র জপ, সেই মোর ধরম করম।। অনুকূল হবে বিধি, সে পদ হইবে সিদ্ধি, নিরখিব এ দুই নযানে। সে রূপ মাধুরী রাশি, প্রাণ কুবলয শশি, প্রফুল্লিত হবে নিশি দিনে।। তুযা অদর্শন অহি, গরলে জারল দেহী, চির দিন তাপিত জীবন। হা হা প্রভু ! কর দযা, দেহ মোরে পদ ছাযা, নরোত্তম লইল শরণ।।৩৯।।
শুনিযাছি সাধু মুখে বলে সর্বজন। শ্রীরূপ কৃপায মিলে যুগল চরণ।। হা হা প্রভু সনাতন গৌর পরিবার। সবে মিলি বাঁছা পূর্ণ করহ আমার।। শ্রীরূপের কৃপা জেন আমা প্রতি হয। সে পদ আশ্রয জার সেই মহাশয।। প্রভু লোকনাথ কবে সংগে লইযা জাবে। শ্রীরূপের পাদ পদ্মে মোরে সমর্পিবে।। হেন কি হইবে মোর নর্ম্ম সখী গণে। অনুগত নরোত্তমে করিবে শাসনে।।৪০।।
এই নব দাসী বলি শ্রীরূপ চাঁহিবে। হেন শুভ ক্ষণ মোর কত দিনে হবে।। শীঘ্র আজ্ঞা করিবেন “দাসী এথা আয। সেবার সুসজ্জা কার্য করহ ত্বরায”।। আনন্দিত হঞা হিযা তাঁর আজ্ঞা বলে। পবিত্র মনেতে কার্য করিব তত্কালে।। সেবার সামগ্রী রত্ন থালেতে করিযা। সুবাসিত বারি স্বর্ণ ঝারিতে পুরিযা।। দুঁহার সম্মুখে লযে দিব শীঘ্র গতি। নরোত্তমের দশা কবে হইবে এমতি।।৪১।।
শ্রীরূপ পশ্চাতে আমি রহিব ভীত হঞা। দোংহে পুনঃ কহিবেন আমা পানে চাঞা।। সদয হৃদযে দোংহে কহিবেন হাসি। কোথায পাইলে রূপ ! এই নব দাসী।। শ্রীরূপমঞ্জরী তবে দোংহ বাক্য শুনি। মংজুলালী দিল মোরে এই দাসী আনি।। অতি নম্রচিত্ত আমি ইহারে জানিল। সেবা কার্য্য দিযা তবে হেথায রাখিল।। হেন তত্ত্ব দোহাকার সাক্ষাতে কহিযা। নরোত্তমে সেবায দিবে নিযুক্ত করিযা।।৪২।।
হা হা প্রভু ! লোকনাথ ! রাখ পাদ দ্বন্দে। কৃপা দৃষ্টে চাহ যদি হইযা আনন্দে।। মনোবাঁছা সিদ্ধি তবে হঙ পূর্ণতৃষ্ণ। হেথায চৈতন্য মিলে সেবা রাধাকৃষ্ণ।। তুমি না করিলে দযা কে করিবে আর। মনের বাসনা পূর্ণ কর এই বার।। এ তিন সংসারে মোর আর কেহ নাই। কৃপা করি নিজ পদ তলে দেহ ঠাঞি।। রাধাকৃষ্ণ লীলা গুণ গাঙ রাত্রি দিনে। নরোত্তম বাঁছা পূর্ণ নহে তুযা বিনে।।৪৩।।
লোকনাথ প্রভু ! তুমি দযা কর মোরে। রাধাকৃষ্ণ চরণে জেন সদা চিত্ত স্ফুরে।। তোমার সহিতে থাকি সখীর সহিতে। এই ত বাসনা মোর সদা উঠে চিতে।। সখীগণ জ্যেষ্ঠ জেংহো তাঁহার চরণে। মোরে সমর্পিবে কবে সেবার কারণে।। তবে সে হইবে মোর বাঞ্ছিত পূরণ। আনন্দে সেবিত দোংহার যুগল চরণ।। শ্রীরূপমঞ্জরি সখি ! কৃপা দৃষ্টে চাঞা। তাপি নরোত্তমে সিংচ সেবামৃত দিঞা।।৪৪।।
হা হা ! কর দযা করুণা তোমার। মিছা মাযা জ্বালে তনু দহিছে আমার।। কবে হেন দশা হবে সখী সংগ পাব। বৃন্দাবনে ফূল গাঁথি দোংহাকে পরাব।। সম্মুখে বসিযা কবে চামর ঢুলাব। অগুরু চন্দন গন্ধ দোংহ অংগে দিব।। সখীর আনায কবে তাম্বুল জোগাব। সিন্দূর তিলক কবে দোংহাকে পরাব।। বিলাস কৌতুক কেলি দেখিব নযনে। চন্দ্রমুখ নিরখব বসাযে সিংহাসনে।। সদা সে মাধুরী দেখি মনের লালসে। কত দিনে হবে দযা নরোত্তমদাসে।।৪৫।।
হরি হরি ! কবে হেন দশা হবে মোর। সেবিব দোংহার পদ আনন্দে বিভোর।। ভ্রমর হইযা সদা রহিব চরণে। শ্রীচরণামৃত সদা করিব আস্বাদনে।। এই আশা করি আমি জত সখীগণ। তোমাদের কৃপায হয বাঁছিত পূরণ।। বহুদিনে বাঁছা করি পূর্ণ জাতে হয। সবে মেলি দযা কর হইযা সদয।। সেবা আশে নরোত্তম কাঁদে দিবা-নিশি। কৃপা করি কর মোরে অনুগত দাসী।।৪৬।।
জয জয শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য নিত্যানন্দ। জযাদ্বৈতচন্দ্র জয গৌরভক্তবৃন্দ।। কৃপা করি সবে মেলি করহ করুণা। অধম পতিত জনে না করিহ ঘৃণা।। এ তিন সংসার মাঝে তুযা পদ সার। ভাবিযা দেখিনু মনে গতি নাহি আর।। সে পদ পাবার আশে খেদ উঠে মনে। ব্যাকুল হৃদয সদা করিযে ক্রন্দনে।। কি রূপে পাইব কিছু না পাই সন্ধান। প্রভু লোকনাথ-পদ নাহিক স্মরণ।। তুমি ত দযাল প্রভু চাহ এক বার। নরোত্তম হৃদযের ঘুচাও অন্ধকার।।৪৭।।
কবে কৃষ্ণধন পাব, হিযার মাঝারে থোব, জুডাইব এ পাপ পরাণ। সাজাইযা দিব হিযা, বসাইব প্রাণপ্রিযা, নিরখিব সে চন্দ্রবদান।। হে সজনি! কবে মোর হইবে সুদিন। সে প্রাণনাথের সংগে, কবে বা ফিরিব রংগে, সুখময যমুনা পুলিন।। ললিতা বিশাখা নিযা, তাঁহারে বৈঠিব গিযা, সাজাইব নানা উপহার। সদয হইযা বিধি, মিলাইবে গুণনিধি, হেন ভাগ্য হইবে আমার।। দারুণ বিধির নাট, ভাংগিল প্রেমের হাট, তিল মাত্র না রাখিল তার। কহে নরোত্তমদাস, কি মোর জীবনে আশ, ছাডি গেল ব্রজেন্দ্রকুমার।।৪৮।।
এই বার পাইলে দেখা চরণ দুখানি। হিযার মাঝারে রাখি জুডাব পরাণী।। তারে না দেখিযা মোর মনে বড তাপ। অনলে পশিব কিংবা জলে দিব ঝাঁপ।। মুখের মুছাব ঘাম খাওযাব পানগুযা। ঘামেতে বাতাস দিব চন্দনাদি চুযা।। বৃন্দাবনের ফুলের গাঁথিযা দিব হার। বনাইযা বাঁধিব চূডা কুন্তলের ভার।। কপালে তিলক দিব চন্দনের চাঁদ। নরোত্তমদাস কহে পিরীতের ফাঁদ।।৪৯।।
গোরা পহুঁ না ভজিযা মৈনু। প্রেমরতন ধন হেলায হারাইনু।। অধম যতন করি ধন তেযাগিনু। আপন করম দোষে আপনি ডুবিনু।। সত্সংগ ছাডি কৈলু অসতে বিলাস। তে কারণে লাগিল জে কর্ম্ম বন্ধ ফাঁস।। বিষয বিষম বিষ সতত খাইনু। গৌর কীর্তন রসে মগন না হৈনু।। কেন বা আছযে প্রাণ কি সুখ পাইযা। নরোত্তমদাস কেন না গেল মরিযা।।৫০।।
বৃন্দাবন রম্য স্থান, দিব্য চিন্তামণি ধাম, রতন মন্দির মনোহর। আবৃত কালিন্দী নীরে, রাজহংস কেলি করে, তাহে শোভে কনক কমল।। তার মধ্যে হেম পীঠ, অষ্ট দলে বেষ্টিত, অষ্টদলে প্রধান নাযিকা। তার মধ্যে রত্নাসনে, বসি আছেন দুই জনে, শ্যাম সংগে সুন্দরী রাধিকা।। ও রূপ লাবণ্য রাশি, অমিয পডিছে খসি, হাস্য পরিহাস সম্ভাষণে। নরোত্তমদাসে কয, নিত্যলীলা সুখময, সদায স্ফুরুক মোর মনে।।৫১।।
কদম্ব তরুর ডাল, নামিযাছে ভূমে ভাল, ফুটিযাছে ফুল সারি সারি। পরিমলে ভরল সকল বৃন্দাবনে, কেলি করে ভ্রমরা ভ্রমরী, রাইকানু বিলাসই রংগে।। কিবা রূপ লাবণি, বৈদগ্ধ খনি ধনি, মণিময আভরণ অংগে। রাধার দক্ষিণ কর, ধরি প্রিয গিরিধর, মধুর মধুর চলি জায।। আগে পাছে সখীগণ, করে ফুল বরিষণ, কোন সখী চামর ঢুলায। পরাগে ধূসর স্থল, চন্দ্র করে সুশীতল, মণিময বেদীর উপরে।। রাইকানু কর জোডি, নৃত্য করে ফিরিফিরি, পরশে পুলকে তনু ভরে। মৃগমদ চন্দন, করে করি সখীগণ, বরিখযে ফুল গন্ধরাজে।। শ্রম জল বিন্দু, শোভা করে মুখ ইন্দু, অধরে মুরলী নাহি বাজে। হাস বিলাস রস, সরল মধুর ভাষ, নরোত্তম মনোরথ ভরু।। দুঁহুক বিচিত্র বেষ, কুসুমে রচিত কেশ, লোচন মোহন লীলা করু।।৫২।।
আজি রসে বাদর নিশি। প্রেমে ভাসি সব বৃন্দাবনবাসী।। শ্যাম ঘন বরখিযে প্রেম সুধাধার। কোরে রংগিণী রাধা বিজুরী সংচার।। প্রেমে পিছল পথ গমন ভেল বংক। মৃগ মদ চন্দন কুংকুমে ভেল পংক।। দিগ বিদিগ নাহি-প্রেমের পাথার। ডুবিল নরোত্তম না জানে সাঁতার।।৫৩।।
হে দেহে নাগর বর, শুন ওহে মুরলীধর, নিবেদন করি তুযা পাযে। চরণ নখর মণি, জেন চাঁদির গাঁথনি, ভাল শোভে আমার গলায।। শ্রীদাম সুদাম সংগে, জখন বনে জাও রংগে, তখন আমি দুআরে দাঁডাযে। মনে করি সংগে জাই, গুরু জনার ভয পাই, আঁখি রহিল তুযা পানে চেযে।। চাই নবীন মেঘ পানে, তুযা বঁধু ! পডে মনে, এলাইলে কেশে নাহি বাঁধি। রন্ধন শালাতে জাই, তুযা বঁধু গুণ গাই, ধুঁযার জলনা করি কাঁদি।। মণি নও মাণিক নও, আঁচলে বাঁধিলে রও, ফুল নও জে কেশে করি বেশ। নারী না করিব বিধি, তুযা হেন গুণনিধি লইযা ফিরিতাম দেশে দেশে।। অগুরু চন্দন হইতাম, তুযা অংগে মাখা রইতাম, ঘামিযা পডিতাম রাঁগা পায। কি মোর মনের সাধ, বামন হযে চাঁদে হাত, বিধি কি সাধ পুরাবে আমার।। নরোত্তম দাসে কয, তোমার উচিত হয, তুমি আমায না ছাডিহ দযা। জে দিন তোমার ভাবে, আমার এ দেহ জাবে, সেই দিনে দেও পদ ছাযা।।৫৪।।
হরি বলিব আর মদনমোহন হেরিব গো। এই রূপে ব্রজের পথে কবে চলিব গো।। জাব জো ব্রজেন্দ্রপুর, হব গোপিকার নূপুর, তাদের চরণে মধুর-মধুর বাজিব গো। বিপিনে বিনোদ খেলা, সংগেতে রাখালের মেলা, তাঁদির চরণের ধূলা মাখিব গো।। রাধাকৃষ্ণের রূপ মাধুরী, হেরিব দু নযন ভরি, নিকুঞ্জের দ্বারে দ্বারী রহিব গো। তোমরা সব ব্রজবাসী, পুরাও মনের অভিলাষই, কবে শ্রীকৃষ্ণের বাঁশী শুনিব গো।। এই দেহ অন্তিম কালে, রাখিব শ্রীযমুনার জলে, জয রাধা শ্রীকৃষ্ণ বোলে ভাসিব গো। কহে নরোত্তমদাস, না পূরিল অভিলাষ, কবে হাম ব্রজবাস করিব গো।।৫৫।।

Explore More